০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিটিবি উদ্যোগে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু

বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় সরকার। ওই লক্ষ্যে শিগগিরই আগামী শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এবার  প্রায় ১৭শ’ কোটি টাকা খরচ করে ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপানো হবে। ৫৯৬টি লটে আহ্বান করা হবে ওসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে দরপত্র। জুন মাসেই ধাপে ধাপে পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আর দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি শেষে আগস্ট থেকে ছাপাখানা মালিকরা শুরু করবে বই ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ। সব বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ছাপানো শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপর উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহ করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতেই বই তুলে দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) টানা ১৬ বছর ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিগত ২০১০ সালে সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেয়া শুরু করে। ওই বছর ২১ জুলাই সব বই ছাপা ও বিতরণ শেষ হয়েছিল। ফলে বই পেতেই বছরের অর্ধেক সময় চলে যায়। তারপর থেকে কোনো সরকার বিনামূল্যে বই ছাপা ও বিতরণে ওই ব্যর্থতা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। চলতি শিক্ষাবর্ষেও সব বই বিতরণে সময় লেগেছে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তাতে দেরিতে শুরু হচ্ছে শিক্ষাবর্ষ। আর প্রয়োজনের চেয়েও কম হচ্ছে ক্লাস। ফলে সিলেবাস শেষ না করেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে। তাতে  শিখন ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এবার ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির জন্য পাঠ্যবই ছাপানো হবে ২২ কোটি ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪৯৩ কপি। ওসব বইয়ের জন্য ৪৫৬ লটে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তার মধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ৭৫ লট করে মোট ২২৫ লট। আর শুধু নবম-দশমের জন্য ১৮০ লট। তাছাড়া ইবতেদায়ি শ্রেণিতে ৩৬ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৬ লট ব্রেইল বই ছাপানো হবে। মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির ওসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে মোট এক হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তাছাড়া প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আগামী শিক্ষাবর্ষে ছাপানো হবে ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৮ কপি পাঠ্যবই। তার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের বইয়ের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি। আর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ কপি বই ছাপানো হবে। ওসব বই ছাপানোর জন্য মোট ১৪০ লটে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তার মধ্যে ১১০ লট প্রাথমিকের ও ৩০ লট হবে প্রাক-প্রাথমিকের বই। ওসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে সরকারের ৪৬০ কোটি টাকা খরচ হবে। অতীতের সব ব্যর্থতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে আসন্ন বছরের প্রথম দিনই বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় এনসিটিবি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জানান, এনসিটিবি এবার ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যেই সব উপজেলা শিক্ষা অফিসে পৌঁছে দেয়া হবে বই। আর সেখান থেকে স্কুলে বই পাঠানো হবে। যাতে ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া সম্ভব হয়। ওই লক্ষ্য সামনে রেখেই এনসিটিবি কাজ করছে। জুনে দরপত্র আহ্বান করা হবে আর আগস্টে শুরু হবে বই ছাপার চুক্তি। ছাপাখানা মালিকরা চুক্তির পর হয়তো দুই মাসের মতো সময় পাবে। সেক্ষেত্রে নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ডেলিভারি দিতে হবে। এনসিটিবে ওই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। ন/দ

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিটিবি উদ্যোগে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু

এনসিটিবি উদ্যোগে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু

আপডেট সময় : ০৫:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় সরকার। ওই লক্ষ্যে শিগগিরই আগামী শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এবার  প্রায় ১৭শ’ কোটি টাকা খরচ করে ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপানো হবে। ৫৯৬টি লটে আহ্বান করা হবে ওসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে দরপত্র। জুন মাসেই ধাপে ধাপে পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আর দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি শেষে আগস্ট থেকে ছাপাখানা মালিকরা শুরু করবে বই ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ। সব বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ছাপানো শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপর উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহ করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতেই বই তুলে দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) টানা ১৬ বছর ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিগত ২০১০ সালে সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেয়া শুরু করে। ওই বছর ২১ জুলাই সব বই ছাপা ও বিতরণ শেষ হয়েছিল। ফলে বই পেতেই বছরের অর্ধেক সময় চলে যায়। তারপর থেকে কোনো সরকার বিনামূল্যে বই ছাপা ও বিতরণে ওই ব্যর্থতা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। চলতি শিক্ষাবর্ষেও সব বই বিতরণে সময় লেগেছে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তাতে দেরিতে শুরু হচ্ছে শিক্ষাবর্ষ। আর প্রয়োজনের চেয়েও কম হচ্ছে ক্লাস। ফলে সিলেবাস শেষ না করেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে। তাতে  শিখন ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এবার ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির জন্য পাঠ্যবই ছাপানো হবে ২২ কোটি ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪৯৩ কপি। ওসব বইয়ের জন্য ৪৫৬ লটে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তার মধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ৭৫ লট করে মোট ২২৫ লট। আর শুধু নবম-দশমের জন্য ১৮০ লট। তাছাড়া ইবতেদায়ি শ্রেণিতে ৩৬ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৬ লট ব্রেইল বই ছাপানো হবে। মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির ওসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে মোট এক হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তাছাড়া প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আগামী শিক্ষাবর্ষে ছাপানো হবে ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৮ কপি পাঠ্যবই। তার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের বইয়ের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি। আর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ কপি বই ছাপানো হবে। ওসব বই ছাপানোর জন্য মোট ১৪০ লটে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তার মধ্যে ১১০ লট প্রাথমিকের ও ৩০ লট হবে প্রাক-প্রাথমিকের বই। ওসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে সরকারের ৪৬০ কোটি টাকা খরচ হবে। অতীতের সব ব্যর্থতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে আসন্ন বছরের প্রথম দিনই বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় এনসিটিবি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জানান, এনসিটিবি এবার ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যেই সব উপজেলা শিক্ষা অফিসে পৌঁছে দেয়া হবে বই। আর সেখান থেকে স্কুলে বই পাঠানো হবে। যাতে ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া সম্ভব হয়। ওই লক্ষ্য সামনে রেখেই এনসিটিবি কাজ করছে। জুনে দরপত্র আহ্বান করা হবে আর আগস্টে শুরু হবে বই ছাপার চুক্তি। ছাপাখানা মালিকরা চুক্তির পর হয়তো দুই মাসের মতো সময় পাবে। সেক্ষেত্রে নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ডেলিভারি দিতে হবে। এনসিটিবে ওই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। ন/দ