০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৬০ বার পড়া হয়েছে

সোনারগাঁও প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো সেখানে নির্দিষ্ট স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে উপজেলায় শিল্পকারখানা, হাসপাতাল-ক্লিনিক, হাটবাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন বর্জ্যের পরিমাণও বাড়ছে। কিন্তু এসব বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও নিরাপদে নিষ্পত্তির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের পাশ, নদী-খালের পাড় ও জনবসতির আশপাশে বর্জ্য জমে পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য ও হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে মাটি, পানি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্মারকলিপিতে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সোনারগাঁয়ে আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও চিকিৎসাবর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি, শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার, নদী-খাল থেকে আবর্জনা অপসারণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ উচ্ছেদ।

এ ছাড়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদন, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি, নাগরিক অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সোনারগাঁয়ের নদী, খাল, জলাশয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা শুধু স্থানীয় স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গেও জড়িত। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ জরুরি।

সংগঠনটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, সোনারগাঁয়ে শিল্পায়ন ও জনবসতি বাড়লেও সেই অনুপাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নদী-খাল ও জনবসতিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্মারকলিপিতে সোনারগাঁয়ের বর্জ্য সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় : ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁও প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো সেখানে নির্দিষ্ট স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে উপজেলায় শিল্পকারখানা, হাসপাতাল-ক্লিনিক, হাটবাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন বর্জ্যের পরিমাণও বাড়ছে। কিন্তু এসব বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও নিরাপদে নিষ্পত্তির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের পাশ, নদী-খালের পাড় ও জনবসতির আশপাশে বর্জ্য জমে পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য ও হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে মাটি, পানি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্মারকলিপিতে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সোনারগাঁয়ে আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও চিকিৎসাবর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি, শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার, নদী-খাল থেকে আবর্জনা অপসারণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ উচ্ছেদ।

এ ছাড়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদন, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি, নাগরিক অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সোনারগাঁয়ের নদী, খাল, জলাশয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা শুধু স্থানীয় স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গেও জড়িত। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ জরুরি।

সংগঠনটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, সোনারগাঁয়ে শিল্পায়ন ও জনবসতি বাড়লেও সেই অনুপাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নদী-খাল ও জনবসতিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্মারকলিপিতে সোনারগাঁয়ের বর্জ্য সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি।