০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে ‘ফ্রি সুইমিং পুল জাদুঘরের গেটে গিয়ে পর্যটকদের সাঁতার!

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

সোনারগাঁও প্রতিনিধি:

ভ্রমণপিপাসু ভাই ও বোনেরা, ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে আপনাদের স্বাগতম! ঈশা খাঁর আমলের স্মৃতিবিজড়িত এই নগরীতে পা রাখলেই ইতিহাসের গন্ধ পাবেন, কিন্তু লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে এলেই আপনি শুধু ইতিহাসের নয়, ‘পানির গন্ধ’ও পাবেন!

যে রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের চাদর গায়ে থাকার কথা ছিল, সেটি এখন ‘মিনি-সুইমিং পুল’ বা ‘অ্যাকুয়ামেন ট্রেইনিং গ্রাউন্ডে’ পরিণত হয়েছে। এটি উন্নয়নের এমন এক অনন্য স্বাক্ষর, যা দেখলে স্বয়ং ঈশাখাঁও হয়তো অবাক হতেন।

রাস্তার খানাখন্দগুলো যেন ইতিহাসের অংশ – কোনোটি পাল আমলের মতো গভীর, কোনোটি মোঘল আমলের মতো বিশাল। বৃষ্টির দিনে প্রতিটি গর্ত পানির নিচে আত্মগোপন করে লুকোচুরি খেলে। রিকশা বা সিএনজি চালকরা তখন দক্ষ ডুবুরির মতো আন্দাজে পথ খুঁজে নেন।

বিদেশি পর্যটকরা এসে অবাক হয়ে ক্যামেরা তাক করেন জাদুঘরের গেটের দিকে, আর ছবি ওঠে কাদা-পানিতে মাখামাখি এক রোমাঞ্চকর অভিযানের। হয়তো তারা ভাবেন, এটিও জাদুঘরের কোনো লাইভ প্রদর্শনী – ‘কীভাবে প্রাচীন যুগে মানুষ কর্দমাক্ত পথে চলাচল করত!’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দূরদর্শী বলেই হয়তো পর্যটকদের জন্য গেটের সামনেই ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’-এর ব্যবস্থা করেছেন।

তবে এলাকাবাসীর বিনীত প্রার্থনা, কর্তৃপক্ষ যেন তাদের চোখের ‘কাঠের চশমাটি’ খুলে রাস্তাটিকে রাস্তা হিসেবেই দেখেন, পুকুর নয়।

ততদিন পর্যন্ত সোনারগাঁয়ে আসুন, লোকশিল্প দেখুন, আর জাদুঘরের সামনে গুনগুন করে গাইুন – “পুকুরে পুকুরে, আমি সাঁতার কাটব রে…”। তবে সাবধান, এখানে সাঁতার কাটার জন্য আলাদা কোনো টিকিট লাগবে না, যাতায়াতের ভাড়ার সাথেই তা ফ্রি!

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের মশাল মিছিল

ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে ‘ফ্রি সুইমিং পুল জাদুঘরের গেটে গিয়ে পর্যটকদের সাঁতার!

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁও প্রতিনিধি:

ভ্রমণপিপাসু ভাই ও বোনেরা, ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে আপনাদের স্বাগতম! ঈশা খাঁর আমলের স্মৃতিবিজড়িত এই নগরীতে পা রাখলেই ইতিহাসের গন্ধ পাবেন, কিন্তু লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে এলেই আপনি শুধু ইতিহাসের নয়, ‘পানির গন্ধ’ও পাবেন!

যে রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের চাদর গায়ে থাকার কথা ছিল, সেটি এখন ‘মিনি-সুইমিং পুল’ বা ‘অ্যাকুয়ামেন ট্রেইনিং গ্রাউন্ডে’ পরিণত হয়েছে। এটি উন্নয়নের এমন এক অনন্য স্বাক্ষর, যা দেখলে স্বয়ং ঈশাখাঁও হয়তো অবাক হতেন।

রাস্তার খানাখন্দগুলো যেন ইতিহাসের অংশ – কোনোটি পাল আমলের মতো গভীর, কোনোটি মোঘল আমলের মতো বিশাল। বৃষ্টির দিনে প্রতিটি গর্ত পানির নিচে আত্মগোপন করে লুকোচুরি খেলে। রিকশা বা সিএনজি চালকরা তখন দক্ষ ডুবুরির মতো আন্দাজে পথ খুঁজে নেন।

বিদেশি পর্যটকরা এসে অবাক হয়ে ক্যামেরা তাক করেন জাদুঘরের গেটের দিকে, আর ছবি ওঠে কাদা-পানিতে মাখামাখি এক রোমাঞ্চকর অভিযানের। হয়তো তারা ভাবেন, এটিও জাদুঘরের কোনো লাইভ প্রদর্শনী – ‘কীভাবে প্রাচীন যুগে মানুষ কর্দমাক্ত পথে চলাচল করত!’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দূরদর্শী বলেই হয়তো পর্যটকদের জন্য গেটের সামনেই ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’-এর ব্যবস্থা করেছেন।

তবে এলাকাবাসীর বিনীত প্রার্থনা, কর্তৃপক্ষ যেন তাদের চোখের ‘কাঠের চশমাটি’ খুলে রাস্তাটিকে রাস্তা হিসেবেই দেখেন, পুকুর নয়।

ততদিন পর্যন্ত সোনারগাঁয়ে আসুন, লোকশিল্প দেখুন, আর জাদুঘরের সামনে গুনগুন করে গাইুন – “পুকুরে পুকুরে, আমি সাঁতার কাটব রে…”। তবে সাবধান, এখানে সাঁতার কাটার জন্য আলাদা কোনো টিকিট লাগবে না, যাতায়াতের ভাড়ার সাথেই তা ফ্রি!